শুভ হোক তোমার জন্মদিন

❤জীবনে তার জন্মের দিনটি একটু হলেও আলাদা অনুভূতি নিয়ে আসে--- কেমন জানি একটা অনুভূতি, ভাল লাগাটা বাঁধ ভাঙা নয় কিন্তু একটু অন্য রকম। কখনো কখনো আসে পাশের কাছের মানুষগুলোর অভিনন্দন পেয়ে নিজের অজান্তেই মনে হয় আমার জন্মটা বুঝি নিরর্থক ছিল না। জন্মদিন নিয়ে আমার ভাবনাগুলো এতটা গোছাল কখনই ছিল কিনা তা জানি না। "তেমনি করে আজকে আমার সাথে কাটানো ৩য় জন্মদিন তোমার ।কখনও কোন কিছু দিয়ে তোমায় হ্যাপি করতে পারিনি স্পেশাল দিন গুলোও অবহেলায় কাটিয়েছি"😥 কারো জন্মদিন এলে তাকে শুভেচ্ছা জানাও, খুব বেশি হলে একটা ছোট্ট গিফট আর নিজের জন্মদিনে অন্যের শুভেচ্ছা গ্রহণ, বন্ধুদের সাথে ২ বা ৩ ঘণ্টার একটা স্পশাল সন্ধ্যা... এই তো জন্মদিন!!!!আরো কিছু আছে কি? কি জানি ! কখনো ভেবে দেখিনি। বরং মাঝে মাঝে জন্মদিন পালন করাটাকে আদিখ্যেতা মনে হতো। সব থেকে মজার ব্যাপার কি!? কখনো কখনো আমি নিজের জন্মদিনটাই ভুলে যেতাম। মানুষের জীবনে সব কিছুরই পালা বদল ঘটে। আজ যা অপছন্দের, কাল তা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসতে পারে। যে ব্যাপার গুলোতে কখনো কোনো আগ্রহই ছিল না, সেগুলোই আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু হতে পারে। চোখে যা নিতান্তই সাদামাটা হয়ে ধরা দিত তা রংধুনু হতে সময় নেয় না। আমার জীবনে সবকিছু এলোমেলো করে তুমি এলে। নিজের মাঝে পরিবর্তন গুলো ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হতে লাগল। তোমার কলকাঠিতে নিজেকে পরিণত অনুভব করতে শুরু করলাম।আমার মাঝে পরিবর্তন এলো। তবে, যা “আমি” ছিলাম, তা আমি এখনো আছি কিন্তু কোথায় জানি তোমার ছোঁয়ায় কিছুটা শুদ্ধ হয়ে বদলে গেছি। অনুভুতির ছোঁয়া গুলো বেশ কাজ আবেগী ।কখনও ফিল করেছ কি ? একান্ত এই আমাকে! থাক এসব কথা। সত্যি কথা বলতে গেলে আমিও জানি না ভালবাশা কাকে বলে মন যা চায় আমি তাই করি ,হয়ত এটাই হতে পারে ভালবাসা কি জানি! ভেবে দেখিনি, তবে ভালবাসা টা আমার কাছে অনেক মুল্যবান,সম্মান করতে জানি । এখন আর এলোমেলো করে ভাবি না; বরং বলা ভাল, ভাবতে চাইলেও পারি না। বছরের প্রতিটা দিন গুরুত্বের সাথে দেখার চেষ্টা করি। সব সময় অনুসন্ধিতসু মন নিয়ে খুঁজি বছরের বিশেষ বিশেষ দিন গুলো। বিশেষ দিনগুলোতে ওর জন্য কি করব, না করব এই চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখি। বছরের সবগুলো দিনকে হার মানিয়ে আমার ব্যস্ততা ও অস্থিরতা চরমে ওঠে ওর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে। কি করে ওর মুখে একটু খানি হাসি ফটানো যায়, কি করে ওকে বোঝানো যায় ও কতটা special,কি করে এই আনন্দের দিনে ওর ছোট্ট পৃথিবীর অংশ হওয়া যায়, কি করে ওর কোমল হৃদয়ে ভালবাসার রঙগুলোকে আরও রঙিন করা যায়। আমার ভালবাসার ব্যাপ্তির বিশালতা থাকলেও তা প্রকাশ করার সামর্থ্য বা সুযোগ কোনটাই কখনো হয়নি। আগে থেকে ভাবতাম যদি ওর জন্য এটা করতে পারতাম, ওটা করতে পারতাম তাহলে ও কতো খুশি হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই করতে পারিনা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি আমি যাই ওর জন্য করতাম ও খুশি হতো বাট বুজতাম না আমি কতোটুকুন খুসি করতে পারছি, যদি জানতাম আমার অপূর্ণতা ঢেকে যেত। এটাই বুঝি ভালবাসার মূল শক্তি। শত অপূর্ণতাকে আড়াল করে শুধু অনুভব করতে আর ভালবাসতে শেখায়। ওকে প্রথম আর শেষ wish করাটা এখন আর বিশেষ কিছু নয় বরং এখন এটা দায়িত্ব হয়ে গেছে। তাই নিজের satisfaction এর জন্য আর ওকে বেশি বেশি খুশি করার জন্য বিশেষ কিছু করার তাড়না বরাবরই আমার মাঝে থাকে। এই যেমন ওর গত বার্থডেতে আমি তার পাশেই ছিলাম । শত ইচ্ছা থাকলেও পারিনি ওর জন্য বিশেষ কিছু করতে । তাই ওর জন্মদিনের আগের দিন অস্থিরতায় আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করব। কিভাবে ভালবাসার মানুষটাকে wish করব। হঠাৎ মাঝারি মানের একটা পরিকল্পনা মাথায় এল ভালবাসা জানানোর । ওর প্রশ্বাস আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যখন ও অনেক খুশি হয় তখন আমার মত সুখি পৃথিবীর কেউ হয় না !। ওর মুখে হাসি দেখে আমার ছোট্ট আশা গুলো অনেক বড় মনে হত। বছর ঘুরে সেই বিশেষ দিনটি আবার আমার সামনে। এবারের দৃশ্যপটটা ভিন্ন। কাছাকাছি থেকেও মহামারী করোনার আর এক গাদা খারাপ সময়ে ভাগ্য আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছে ! অবাক পৃথিবী । জানি না কোন ছোট্ট আয়োজনে তাকে আনন্দে ভাসাতে পারব কিনা। যার হাসিতে আমার সমস্ত পৃথিবী অর্থবহ হয়ে ওঠে, যাকে কেন্দ্র করে আমার ভালবাসার সাথে পরিচয়, যার চোখের জলে নিজেকে এলোমেলো লাগে, যাকে একবার দেখব বলে প্রতীক্ষার প্রহর ফুরয় না, সারাটি জীবন ধরে তাকে ছোট ছোট আয়োজনে আনন্দ দিতে চাই; চাই তার সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে থাকতে। সবার শেষে স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে গিয়ে বলতে চাই, এই বিশেষ দিনের বিশেষত্ব যেন তোমার সারা জীবনের প্রতীক হয়ে থাকে। তুমি যেখানেই থাকো না কেন আনন্দ, সুখ, হাসি এই শব্দগুলো যেন তোমার নিত্য সঙ্গী হয়ে থাকে। তোমার ছোট্ট পৃথিবীর ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পূর্ণতাকে স্পর্শ করুক।আজকের দিনে এই ধরণী স্পর্শ করার জন্য এই কুলাঙ্গারটা তোমার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। “আজ জন্মদিন তোমার”—শুভ হোক তোমার জন্মদিন, শুভ হোক তোমার বাকি জীবনের পথ চলা প্রিয় ।।❤

Comments